Logo
প্রিন্টের তারিখ: 01 June 2026 | প্রকাশের তারিখ: Jun 1, 2026

News Headlines : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক শিক্ষার্থীর আর্তি—“মিথ্যা মামলার বোঝা নিয়ে আর কত?”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক শিক্ষার্থীর আর্তি—“মিথ্যা মামলার বোঝা নিয়ে আর কত?”

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় এক মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন যেন হঠাৎ করেই থমকে গেছে একটি “মিথ্যা মামলার” ভারে। স্বপ্ন ছিল বড় কিছু হওয়ার, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এখন দাঁড়িয়ে আছে ভয়, আতঙ্ক আর আদালতের বারান্দা।

হাসিবুন নাহার সিনহা—গলাচিপা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশিদের কন্যা এবং গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। 

ছোটবেলা থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখে আসা এই শিক্ষার্থী আজ নিজেকে খুঁজে পাচ্ছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ভেতর।

গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার মাঝেই তার জীবনে নেমে আসে এই দুর্যোগ। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় ২৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার একটি ঘটনা—ঠিক সেই সময়টাতেই হাসিবুন নাহার সিনহা পরীক্ষার হলে বসে ইংরেজি পরীক্ষা দিচ্ছিল। তবুও, তাকে করা হয় মামলার ১২ নম্বর আসামি।

এরপর থেকেই শুরু হয় তার দুঃসহ দিনরাত্রি। গ্রেপ্তারের ভয়ে নিজ বাড়িতে থাকতে পারেনি সে। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে দিতে হয়েছে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো। পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ভেঙে পড়ে, তবুও হাল ছাড়েনি সে।

সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে, গলাচিপা উপজেলা থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে সে প্রমাণ করেছে নিজের মেধা ও অদম্য মনোবল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তার হাতে তুলে দিয়েছেন ক্রেস্ট ও সনদ—একটি অর্জন, যা আনন্দের হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার হৃদয়ে সেই আনন্দ মিশে গেছে অজানা কষ্টে।
হাসিবুন জানায়, “যদি আমাকে এই মিথ্যা মামলায় জড়ানো না হতো, তাহলে আমি আরও ভালো ফলাফল করতে পারতাম, মেধা তালিকায় স্থান পেতাম।”

আজও সেই মামলার ভার বইতে হচ্ছে তাকে। আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে তার পড়াশোনায় এবং মানসিক জীবনে।
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে, একজন স্বপ্নবাজ কিশোরী হিসেবে—সে এখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মানুষের কাছে ন্যায়বিচার চায়। তার কণ্ঠে শোনা যায় আকুতি—
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন এবং পটুয়াখালী–৩ আসনের এমপি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর আংকেলের কাছে আমি বিচার চাই। 

আমি যেন আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারি, আমার পড়াশোনা যেন আর বাধাগ্রস্ত না হয়।”

একটি মেধাবী প্রাণ আজ ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায়। প্রশ্ন একটাই—তার এই আর্তি কি পৌঁছাবে দায়িত্বশীলদের কানে? নাকি একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ হারিয়ে যাবে বিচারহীনতার অন্ধকারে?
All Rights Reserved By Shadin Ekattor News
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF