Logo
প্রিন্টের তারিখ: 03 August 2026 | প্রকাশের তারিখ: Aug 3, 2026

News Headlines : পাশের বাড়ির দম্পতির স্বীকারোক্তিতে উন্মোচিত হলো শিশু আয়শা হত্যার নির্মমতম ঘটনা

পাশের বাড়ির দম্পতির স্বীকারোক্তিতে উন্মোচিত হলো শিশু আয়শা হত্যার নির্মমতম ঘটনা
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় আলোচিত শিশু আয়শা (২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে শিশুর প্রতিবেশী রিকশাচালক মোঃ রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০) ও তার স্ত্রী মোছাঃ কোহিনুর বেগমকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (০১ মে) ভোরে দুই অভিযুক্তকে তাদের নিজ বাড়ি গ্রেফতার করা হয়। পরে শুক্রবার বিকালে গ্রেফতার কোহিনুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন।

কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেল) আশরাফুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ১৭ এপ্রিল কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা শাহপাড়া এলাকায় দিনভর নিখোঁজ থাকার পর নিজ বসতবাড়ির পাশ থেকে আয়শার লাশ উদ্ধার করেন স্বজনরা। সে ওই গ্রামের মোঃ আলমগীর হোসেনের মেয়ে। আপেল ও কোহিনুর তার প্রতিবেশী। এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সকালে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ আয়শাকে রাতে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে মানবন্ধন করেন। ১৩ দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন করে ‘হত্যাকারীদের’ গ্রেফতার করতে সক্ষম হলো পুলিশ।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, শিশু আয়শা ১৭ এপ্রিল বাড়ির বাইরে গিয়ে প্রতিবেশী রিকশাচালক আপেল-কোহিনুর দম্পতির শিশু সন্তানের সঙ্গে খেলছিল। খেলার সময় আপেলের সন্তানের হাতে থাকা কলম দিয়ে আয়শার চোখে আঘাত লাগে। এতে আয়শার চোখ দিয়ে রক্ত বের হয়। আয়শা কান্না শুরু করে। এ দৃশ্য দেখে আপেলের স্ত্রী কোহিনুর আতঙ্কিত হয়ে আয়শার চিৎকার থামানোর জন্য তার মুখ চেপে ধরে। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয়ে শিশু আয়শা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন ভয়ে আয়শাকে বাড়িতে থাকা একটি ড্রামে রাখে। দিনভর ড্রামের অবরুদ্ধ থেকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

এর মধ্যে আয়শাকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে কোহিনুর আরও ভীত হয়ে পড়েন। পরে তার স্বামী আপেলসহ সন্ধ্যার পর কারেন্ট চলে গেলে আয়শার লাশ তাদের বাড়ির কাছে ফেলে রেখে আসে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, ‘এটি একটি ক্লুলেস মামলা ছিল। পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় পুলিশ নিবিড় তদন্ত করে হত্যারহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।’

চিলমারী মডেল থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার বলেন, ‘গ্রেফতার আসামিদের শুক্রবার বিকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর মধ্যে কোহিনুর বেগম হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত জবানবন্দি নথিভুক্ত করে উভয় আসামিকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’
All Rights Reserved By Shadin Ekattor News
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF