প্রিন্টের তারিখ: 01 June 2026 |
প্রকাশের তারিখ: Jun 1, 2026
News Headlines : কুরআন বিরোধীদের আস্ফালন এ দেশে টিকবে না—এটিএম আজহারুল ইসলাম
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ সোমবার (১১ মে) ঐতিহাসিক কুরআন দিবস উপলক্ষ্যে শহরের পৌরপার্ক (বড় ইন্দারা মোড়) চত্বরে এক বিশাল ছাত্র গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল গালিবের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ১৯৮৫ সালের এই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে পবিত্র কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় যারা শাহাদাতবরণ করেছিলেন, তারা এ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তৎকালীন ইসলামবিদ্বেষী শাসকগোষ্ঠী ও তাদের পেটুয়া বাহিনী কুরআনের আলো নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু এ দেশের তৌহিদী জনতা রক্ত দিয়ে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। তিনি বলেন, ১১ মে কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি বাতিলের বিরুদ্ধে হকের বিজয়ের এক অবিনাশী চেতনা। সেই দিন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারা আজও এ দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী ও কামারুজ্জামানদের মতো ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে ফ্যাসিস্ট ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী ভেবেছিল এই আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা শাহাদাতের তামান্না নিয়ে আজও রাজপথে টিকে আছে। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে কোনো ধরণের নিষেধাজ্ঞা বা দমন-পীড়ন দিয়ে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়। শাহজালাল ও তিতুমীরের এই দেশে কুরআনের অবমাননাকারীদের পরাজয় অনিবার্য। কুরআন বিরোধীদের আস্ফালন এ দেশে টিকবে না ইনশাআল্লাহ।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, আজ থেকে কয়েক দশক আগে এই চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজপথ কুরআন প্রেমিক ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। যারা মনে করেছিল লাঠিচার্জ, গুলি আর জেল-জুলুম দিয়ে কুরআনের আওয়াজকে স্তব্ধ করে দেবে, ইতিহাস সাক্ষী তারা ব্যর্থ হয়েছে। ১১ মে থেকে শুরু হওয়া সেই কুরআনের আন্দোলন আজ এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে কুরআনের কর্মীরা বারবার প্রমাণ করেছে যে, জীবন দিলেও তারা কুরআনের অবমাননা বরদাশত করবে না।
তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনের সুরা আল-বুরুজ ও সুরা আল-কাওসারের শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সত্যের পথ কণ্টকাকীর্ণ হলেও বিজয় সুনিশ্চিত। ফেরাউন ও সামুদ জাতির মতো শক্তিশালী দাম্ভিক শাসকরা আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, কিন্তু কুরআন আজও সগৌরবে টিকে আছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কুরআনের আদর্শই মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ। তাই সকল ভয়ভীতি ও অপপ্রচারের ঊর্ধ্বে উঠে একটি ইনসাফপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ছাত্রশিবিরের প্রতিটি কর্মীকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
ছাত্র গণজমায়তে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিল্প ও সস্কৃতি সম্পাদক হাফেজ মোহাম্মদ আবু মুসা। এছাড়াও জেলা শাখা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গণজমায়েতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ছাত্র ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।