Logo
প্রিন্টের তারিখ: 03 August 2026 | প্রকাশের তারিখ: Aug 2, 2026

News Headlines : সুনামগঞ্জে চেতনানাশক খাইয়ে চুরি: গৃহকর্মীসহ গ্রেফতার ২, উদ্ধার পৌনে ৪ লাখ টাকার মালামাল

সুনামগঞ্জে চেতনানাশক খাইয়ে চুরি: গৃহকর্মীসহ গ্রেফতার ২, উদ্ধার পৌনে ৪ লাখ টাকার মালামাল
সুনামগঞ্জে চেতনানাশক প্রয়োগ করে চুরির ঘটনায় গৃহকর্মীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও গলানো স্বর্ণের পিন্ডিসহ প্রায় পৌনে ৪ লাখ টাকার চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

জগন্নাথপুর থানায় দায়ের করা গত ৪ মে’র একটি মামলার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে এ সাফল্য পায় ডিবি পুলিশ। মামলাটি পেনাল কোডের ৩২৮, ৩৮১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়। ঘটনাটি জগন্নাথপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি বসতবাড়িতে ঘটে।

পুলিশ জানায়, জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মল্লিকপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী শিপা বেগম ও তার সহযোগী নেছার আহমদকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর শিপা বেগমের হেফাজতে থাকা একটি ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে নগদ ৬৬ হাজার টাকা, ২০ পাউন্ডের দুটি বৈদেশিক নোট, একটি সিটি ব্যাংকের চেক বই, একটি জমির দলিল এবং চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ‘ডিসোপ্যান-২’ ওষুধের খালি পাতা উদ্ধার করা হয়।

পরে অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকার হক সুপার মার্কেটের ‘ছুম্মা আমিন জুয়েলার্স’ দোকানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৮ হাজার ১৮৭ টাকা মূল্যের এক জোড়া চোরাই স্বর্ণের কানের দুল উদ্ধার করা হয়।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১২ মে একই জুয়েলার্স দোকানে পুনরায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া একটি স্বর্ণের চেইন গলানো অবস্থায় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের পিন্ডি উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন এক ভরি চার আনা দুই রতি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

পুলিশ জানায়, নগদ অর্থসহ উদ্ধার করা চোরাই মালামালের মোট মূল্য ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৭ টাকা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম জিবান জানান, আদালতে প্রেরণের পর গ্রেফতারকৃতরা চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, মূল অভিযুক্ত শিপা বেগম একজন পেশাদার চোর। বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া পরিচয়ে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নিয়ে সুযোগ বুঝে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করত। পরে আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যেত। এ ঘটনায় কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
All Rights Reserved By Shadin Ekattor News
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF