দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বদেশ মৃত্তিকা আদর্শ বিদ্যানিকেতন-এ বর্ণাঢ্য দেশীয় ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজন করে স্বদেশ মৃত্তিকা মানব উন্নয়ন সংস্থা, আগারগাঁও শাখা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দেশীয় ফলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
উৎসবে বিনামূল্যে ফল বিতরণের সম্পূর্ণ অর্থায়ন করেন স্বদেশ মৃত্তিকা মানব উন্নয়ন সংস্থার উপদেষ্টা মুহাম্মাদ নুরুস সাবা মিঠু। শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশন করা হয় নানা ধরনের দেশীয় ও মৌসুমি ফল। এর মধ্যে ছিল কলা, আম, কাঁঠাল, আনারস, পেয়ারা, লটকন, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর ফল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বদেশ মৃত্তিকা আদর্শ বিদ্যানিকেতন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মো. আকবর হোসেন, স্বদেশ মৃত্তিকা মানব উন্নয়ন সংস্থা-র উপদেষ্টা মুহাম্মাদ নুরুস সাবা মিঠু, SEA Foundation-এর চেয়ারম্যান মো. গোলাম রহমান, সংস্থার পরিচালক সিরাজুল ইসলাম সাগর এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।
স্বদেশ মৃত্তিকা আদর্শ বিদ্যানিকেতন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মো. আকবর হোসেন বলেন,
“বর্তমান সময়ে শিশুরা কৃত্রিম ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ছে। অথচ আমাদের দেশীয় ফল ভিটামিন, খনিজ ও প্রাকৃতিক পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আয়োজন তাদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে সহায়তা করবে।”
স্বদেশ মৃত্তিকা মানব উন্নয়ন সংস্থা-র উপদেষ্টা মুহাম্মাদ নুরুস সাবা মিঠু বলেন,
“শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। দেশীয় ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর। এমন মানবিক উদ্যোগে যুক্ত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”
SEA Foundation-এর চেয়ারম্যান মো. গোলাম রহমান বলেন,
“দেশীয় ফলের প্রতি শিশুদের আগ্রহ বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। এ ধরনের আয়োজন শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলে এবং প্রাকৃতিক ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। সমাজের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে একটি সুস্থ ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফল বিতরণ করা হয়। দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আলোচনা এবং আনন্দঘন পরিবেশে ফল উপভোগের মাধ্যমে উৎসবটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
স্বদেশ সময়